এক এক করে শতাধিক দোকান বসে গিয়েছে শিলিগুড়ির দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ফ্লাইওভার এর নিচে।
ফ্লাইওভারের নিচে রীতিমতন মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি হয়ে গিয়েছে।
সূত্রের খবর ২ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এক একটি দোকান থেকে নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল আমলে স্থানীয় বেশ কয়েকজন দাদা এবং নেতা এই কারবার চালিয়েছেন বলেই অভিযোগ।
বর্তমানে হকার্স কর্নার থেকে মহাবীরস্থান যাবার পথে, রেললাইন পার হওয়ার পর, হাতের ডানদিকে এবং হাতের বাঁদিকে, ফ্লাইওভারের নিচে, আপনি যত দোকান দেখছেন, প্রত্যেকটি দোকান লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বসানো হয়েছে বলেই সূত্রের খবর।
ছোট দোকান দুই লাখ, বড় দোকান ৫ লাখ করে নেওয়া হয়েছে বলেই কান পাতলে শোনা যায়।
সরকারি রাস্তা রীতিমতন বিক্রি হয়ে গেছে দিনের আলোতে।
ফ্লাইওভারের নিচে বর্তমানে তৈরি হয়েছে বেআইনি মার্কেট কমপ্লেক্স।
জামাকাপড়ের দোকান থেকে শুরু করে ভাতের হোটেল পর্যন্ত চলছে।
শতাধিক দোকান বেআইনিভাবে তৈরি হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি তৃণমূল সরকার।
ফ্লাইওভারের নিচটা দিনে দুপুরে বিক্রি করে দিয়েছে কয়েকজন দাদা।
কোটি কোটি টাকার খেলা হয়েছে।
ঠিক একইভাবে ধীরে ধীরে শিলিগুড়ির নতুন ঝংকার মোড়ের উপর দিয়ে চলে যাওয়া রেল ওভারব্রিজ ফ্লাইওভারের নিচেও বসতে শুরু করছে দোকান।
ওই উড়ালপুলের নিচে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ভাতের হোটেল, চায়ের দোকান, সেলুন, বাসের টিকিট কাউন্টার চলছিল।
চারচাকা গাড়ি পার্কিংয়ের লট তৈরি করে ফেলেছিলেন অনেকে।
গতকাল আমার বাংলায় এই সংবাদ প্রকাশিত হতেই নড়েচড়ে বসলো শিলিগুড়ি পৌরনিগম।
আজ সকালে ওই উড়ালপুলের নিচে থাকা সমস্ত বেআইনি দোকান উচ্ছেদ করল শিলিগুড়ি পৌর নিগম।
পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে উড়ালপুলের নিচের সমস্ত এলাকা।
আর এতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় অবৈধ দোকান করা ব্যবসায়ীরা।
সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা করার চেষ্টা করা ওই স্থানীয় দোকানীরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললেন।
তাদের নাকি অনেক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
তাদের দোকানপাট পৌরনিগম ভেঙে ফেলাতে অনেক জিনিস নাকি নষ্ট হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন একটাই।
সরকারি জমি, ফ্লাইওভারের নিচে দোকান করার সাহস আপনারা পেলেন কোথায়?
পেছনে কে?
কোন দাদা টাকা নিয়ে আপনাদেরকে বসিয়েছিল?
সবেমাত্র উড়ালপুল টা তৈরি হয়েছে, আর আপনারা সরকারি জায়গা দখল করে দোকান করা শুরু করেছেন?
একটা দুটা করে দশটা দোকান ইতিমধ্যেই বসে গিয়েছে।
এদের দেখে তো আরো বসতো।
পেছনে কে?
স্থানীয় কোনো দাদা ওই দোকান বসিয়ে টাকা তুলছিল না তো?
শিলিগুড়ি পৌর নিগমের এই উদ্যোগে খুশি শিলিগুড়ির আমজনতা।
প্রথম থেকেই এই দখলদারি বন্ধ না করলে আগামীতে ভয়ংকর আকার ধারণ করতে বলেই অভিমত সাধারণ মানুষের। শিলিগুড়ি পৌর নিগমের এই অভিযান কে স্বাগত জানিয়েছেন শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখতে চাওয়া আমজনতা।। বিউরো রিপোর্ট আমার বাংলা।