নব্য বিজেপির অত্যাচারে গ*লা*য় দ*ড়ি তৃণমূল নেত্রীর!হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সংগে লড়াই, থানায় মিলল না ন্যায়! বাড়ি থেকে উদ্ধার হল সু*ই*সা*ই*ড নোট।
হাওড়ায় আইনের শাসন নাকি অপরাধীদের আড়াল করার খেলা?গোলাবাড়ি থানা এলাকায় ঘটে গেল এক মারাত্মক রাজনৈতিক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে চার মে-র পর যারা তৃণমূলের জার্সি ছেড়ে রাতারাতি নব্য বিজেপি সেজেছে, সেই সুযোগসন্ধানী দলের লাগাতার অত্যাচার ও আতঙ্কে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের মহিলা ওয়ার্ড প্রেসিডেন্ট জয়শ্রী পাড়াল! মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনি অভিযোগ করে গেছেন, মন্ত্রী তথা উত্তর হাওড়ার বিধায়ক উমেশ রায়ের নাম ভাঙিয়ে তাঁদের প্রতিনিয়ত ভয় দেখানো হতো। বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে জীবন-মৃত্যুর মাঝে লড়ছেন তিনি।
জয়শ্রীদেবীর স্বামী গোরাচাঁদ পাড়াল সরাসরি ক্যামেরা ও মিডিয়ার সামনে এনেছেন মারাত্মক অভিযোগ। তাঁর দাবি গত ৪ মে-র পর থেকে এলাকা দখলের নামে এই নব্য বিজেপি সমর্থকরা তাঁদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। শুধু মানসিক নির্যাতনই নয়, জয়শ্রীদেবীকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হতো, “স্বামীকে খুন করে দেব, ছেলেদেরও বেঁচে থাকতে দেব না!” গত পরশু সন্ধ্যায় এই অত্যাচারের মাত্রা সীমা ছাড়ায়। পরিবার ও সন্তানদের প্রাণহানির গভীর ভয়ে চরম মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকেন তৃণমূলের এই মহিলা নেত্রী। আতঙ্কে সেদিন রাতের খাবারও মুখে তুলতে পারেননি। শেষমেশ পরিবারের ওপর এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে নিজের বাড়িতেই গলায় দড়ি দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সরকারের মূল মন্ত্র ছিল “ভরসা ইন, ভয় আউট”। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন, পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলতে হবে এবং আইন চলবে আইনের পথেই।
কিন্তু হাওড়ার বাস্তব চিত্র ঠিক উল্টো! জয়শ্রীদেবীকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর তাঁর স্বামী গোরাচাঁদবাবু যখন বিচার চাইতে গোলাবাড়ি থানায় যান, তখন পুলিশ অভিযোগপত্র নিতে সরাসরি অস্বীকার করে বলে অভিযোগ। অপরাধীরা ‘নব্য বিজেপি’ হওয়ার কারণেই কি পুলিশের এই নীরবতা ও পক্ষপাতিত্ব?
যেখানে একজন ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সভাপতির পরিবারও পুলিশের কাছে গিয়ে বিচার পাচ্ছে না, সেখানে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা কোথায়? হাসপাতালের বেডে এখনো জীবনের সাথে পাঞ্জা লড়ছেন জয়শ্রী পাড়াল। পুলিশ কি অবশেষে নিরপেক্ষ তদন্ত করবে, নাকি অপরাধীদের আড়াল করতেই ব্যস্ত থাকবে?