AMAR BANGLA NEWS

প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে রেহানা খাতুনকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ, ডিম ছোড়া ও হাতাহাতি

প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে রেহানা খাতুনকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ, ডিম ছোড়া ও হাতাহাতি কলকাতায় প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতরে শুক্রবার চরম উত্তেজনার...

প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে রেহানা খাতুনকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ, ডিম ছোড়া ও হাতাহাতি

কলকাতায় প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতরে শুক্রবার চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয় প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর ও বোরো চেয়ারম্যান রেহানা খাতুনের কংগ্রেসে যোগদানকে কেন্দ্র করে। দলীয় কর্মীদের একাংশের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে দফতরের মধ্যেই ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে উপস্থিত অন্য কর্মীদের বচসা থেকে হাতাহাতির পরিস্থিতিও তৈরি হয়।

জানা গিয়েছে, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর রেহানা খাতুন এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগ দিতে প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে পৌঁছন। তাঁর যোগদানের খবর প্রকাশ্যে আসতেই দলের একাংশের কর্মী-সমর্থকরা প্রবল আপত্তি জানান। তাঁরা স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং রেহানা খাতুনের যোগদানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান।

বিক্ষোভ চলাকালীন রেহানা খাতুনকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা দফতরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে উপস্থিত নেতারা ও কর্মীরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

বিক্ষোভকারী কংগ্রেস কর্মীদের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কা এড়াতেই রেহানা খাতুন কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন। তাঁদের দাবি, এই ধরনের নেতাদের দলে নেওয়া হলে কংগ্রেসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। তাই তাঁরা রেহানা খাতুনের যোগদানের তীব্র বিরোধিতা করেন।

ঘটনাস্থলে কিছু সময়ের জন্য ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। দলীয় দফতরের ভিতরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রবীণ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বিষয়টির দিকে নজর রাখছেন। তবে রেহানা খাতুনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বা বিক্ষোভকারীদের দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা বিচারিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি।

ঘটনার পরও প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে উত্তেজনা বজায় ছিল। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়। রেহানা খাতুনের যোগদানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক আগামী দিনে রাজ্য কংগ্রেসের অন্দরের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।