কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে সৌজন্যের ছবি, কাকলিকে মঞ্চে ডাকলেন CM শুভেন্দু
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, মদের দোকান নিয়ন্ত্রণ সহ একাধিক বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
নদিয়ার কল্যাণীতে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে উঠে এল রাজনৈতিক সৌজন্যের এক ভিন্ন ছবি। বৈঠকে যোগ দিতে এসে প্রথমে দর্শকাসনে বসেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। পরে সভাস্থলে প্রবেশ করে CM শুভেন্দু অধিকারী নিজেই তাঁকে মঞ্চে ডেকে নেন বলে সূত্রের খবর। এরপর পুরো বৈঠক জুড়েই কাকলিকে মঞ্চে বসে থাকতে দেখা যায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “উন্নয়নের স্বার্থে এমন সৌজন্য থাকা উচিত। প্রশাসনিক কাজে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলাই ভালো বার্তা দেয়।”
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে CM শুভেন্দু অধিকারী বলেন,
“আমি কখনও কোনও বৈঠকে ডাক পাইনি। তাই প্রথম থেকেই আমি সবাইকে নিয়ে চলার কথা বলেছিলাম। আমরা বিশেষ বিশেষ সাংসদদের ডাকব। মানুষ যাতে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকার ও বিরোধীদের সমন্বয়ের সুবিধা পায়, সেটাই চাই। রাজনৈতিক কচকচানি ভোটেই সীমাবদ্ধ থাক।”
এদিনের বৈঠক থেকে রাজ্যের নতুন প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বুধবার থেকেই অনলাইন ও অফলাইনে ফর্ম দেওয়া শুরু হবে। একইসঙ্গে শুরু হবে ফর্ম ফিলআপের কাজও। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যত দ্রুত এনরোলমেন্ট হবে, তত দ্রুত উপভোক্তারা ৩০০০ টাকা পাবেন।”
তিনি আরও জানান, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে নাম নথিভুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আওতায় রয়েছেন, তাঁরা আগের মতোই ১৫০০ টাকার অনুদান পেতে থাকবেন। তবে এক্ষেত্রে কেবল ভারতীয় নাগরিকরাই এই সুবিধা পাবেন বলেও স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি আগের সরকারের সময় কিছু জায়গায় পুরুষরাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতেন বলে অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, “এবার সেই ধরনের অনিয়ম আর হবে না।”
প্রশাসনিক বৈঠক থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, স্কুল, কলেজ ও মন্দিরের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনও মদের দোকান রাখা যাবে না। কোথাও এমন দোকান থাকলে তা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
রাজনৈতিক সৌজন্য, নতুন প্রকল্পের ঘোষণা এবং প্রশাসনিক কড়াকড়ি— সব মিলিয়ে কল্যাণীর বৈঠক ঘিরে দিনভর ছিল ব্যাপক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চর্চা।