AMAR BANGLA NEWS

এক গুচ্ছ আবেদন নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন আদিবাসী সম্প্রদায়ের

দীর্ঘদিনের প্রয়াস এবং মোদি ও অমিত শাহর কুশল নেতৃত্বের জন্য রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার গঠন করেছেন। সকল...

দীর্ঘদিনের প্রয়াস এবং মোদি ও অমিত শাহর কুশল নেতৃত্বের জন্য রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার গঠন করেছেন। সকল বিজেপি নেতৃত্বদের উত্তরবঙ্গ তথা তরাই-ডুয়ার্সের বিভিন্ন আদিবাসী সমাজের পক্ষ থেকে জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা। রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়কে ধন্যবাদ — তিনি সরকার গঠনের পরপরই যে রোহিঙ্গাদের তাড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, তার জন্য আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা রইল। এভাবেই যদি ভারতে ডুয়াল আইডেন্টিটি নিয়ে থাকা বিদেশিদের তাড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তবে কোনো ভারতীয় যাতে শিকার না হন। নতুন সরকার পাহাড় নিয়ে যে PPS-এর কথার উল্লেখ করেছেন, সেটাকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে আমাদের দাবি — আদিবাসী টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গঠন আগে হোক।

 

এখন আমরা উত্তরবঙ্গ আদিবাসী বিকাশ পরিষদ (UBAVP)-এর পক্ষ থেকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া

**মেমোরেন্ডাম অফ ডিমান্ডস**-এর মূল বিষয়গুলো তুলে ধরছি।

 

– চা শিল্প উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ হলেও আদিবাসী চা শ্রমিকরা এখনও সংগঠিত শ্রমশক্তির মধ্যে সবচেয়ে বঞ্চিত।

– **আইনি ন্যূনতম মজুরি নেই** — ফলে শ্রমিকরা বাগান মালিকের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।

– **ভূমি অধিকার নেই** — প্রজন্ম ধরে বাগানে থাকলেও হোমস্টেড ও ল্যান্ড রাইট পায়নি, শুধু ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।

– **ক্যাজুয়ালাইজেশন** বাড়ছে — স্থায়ী শ্রমিকের বদলে অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক বাড়ছে, যারা সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত।

– বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক সুবিধার চরম অভাব।

 

 

1. **ডুয়ার্স-তরাই আদিবাসী টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (DTATA)** অবিলম্বে গঠন — এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।

 

2. **অবিলম্বে আইনি ন্যূনতম মজুরি** ঘোষণা ও বাস্তবায়ন (Code on Wages, 2019)।

 

3. শ্রমিকদের **হোমস্টেড জমি + কিচেন গার্ডেন + ধান জমির** স্থায়ী স্বত্ব দেওয়া।

 

4. শ্রম কোডগুলোর (Wages, Safety, Social Security) কঠোর বাস্তবায়ন সব ধরনের শ্রমিকের জন্য।

 

5. সার্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা (ESI, PF, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, গ্র্যাচুইটি ইত্যাদি)।

 

6. বাসস্থান, পানীয় জল, স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ ও রাস্তার মতো মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা।

 

7. চা অঞ্চলে ইংরেজি মাধ্যম সরকারি/একালব্য মডেল স্কুল প্রতিষ্ঠা।

 

8. উত্তরবঙ্গের জন্য সম্পূর্ণ শিল্প নীতি তৈরি করে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

আমরা দয়া চাই না, **ন্যায়** চাই। সংবিধান আমাদের অধিকার দিয়েছে — ন্যূনতম মজুরি, ভূমি অধিকার এবং ডুয়ার্স-তরাই আদিবাসী টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। নতুন সরকার যেন এই দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করে আদিবাসী চা শ্রমিকদের মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।

NEP 2020 অনুসারে কমপক্ষে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ডুয়ার্স ও তরাই অঞ্চলে তিন লাখেরও বেশি বোডো/মেচ জনগোষ্ঠী বাস করে। বোডো ভাষা ভারতের সংবিধানের অষ্টম তফসিলে স্বীকৃত। তাই এই অঞ্চলের স্কুলগুলোতে প্রাথমিক স্তরে বোডো ভাষায় শিক্ষা চালু করা উচিত ও প্রয়োজনীয়।

আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানাই যে, NEP 2020 অনুসারে ডুয়ার্সের যোগ্য স্কুলগুলোতে বোডোকে মাতৃভাষা বা বিষয় হিসেবে চালু করা হোক। এতে বোডো/মেচ সম্প্রদায়ের ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষিত হবে এবং সবার জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত হবে।