AMAR BANGLA NEWS

আজ ২৫শে বৈশাখ বিশ্বকবি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৬ তম জন্মদিনে ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটলো ঐতিহ্যপূর্ণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদধূলিতে ধন্য ঐতিহাসিক ঘটনার...

আজ ২৫শে বৈশাখ বিশ্বকবি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৬ তম জন্মদিনে ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটলো ঐতিহ্যপূর্ণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদধূলিতে ধন্য ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী পানিহাটির ছাতু বাবুর বাগান বাড়ি, যা আজ পেনিটি ভবন নামেও পরিচিত। এই ঐতিহ্যমন্ডিত ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী এই বাড়িতে এবছর ৩৩ বছর ধরে পালন করে আসা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন ২৫ শে বৈশাখ এবছর পানিহাটি পৌরসভার পক্ষ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গুরুদেবের ১৬৬ তম জন্মদিন পালন করার হলো না। কখনো লাল কখনো সবুজ কখনো গেরুয়া রং এর পরিবর্তন হয়,রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়,তার জেরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আজ পানিহাটির মতন জায়গায় পানিহাটি পৌরসভার পক্ষ থেকে যা সরকারিভাবে পালন করা হতো এবছর আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৬ তম জন্মদিন পালন করার উদ্যোগ নিল না পানিহাটি পৌরসভা।এলাকার রবীন্দ্র প্রেমী মানুষ এবং কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এই প্যানিটি ভবনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৬ তম জন্মদিন পালন করা হয়।কিন্তু দেখা পাওয়া যায়নি পানিহাটি পৌরসভার পৌর কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে কোন জনপ্রতিনিধি এবং পৌর প্রধান সহ উপপৌর প্রধান কাউকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই পেনেটি ভবন যার আগে নাম ছিল ছাতুবাবুর বাগানবাড়ি এখানে চারবার এসেছিলেন, প্রথম এখানে এসেছিলেন ১১ বছর বয়সে ১৮৭২ সালের ১৪ই মে,যখন কলকাতার ছড়িয়ে পড়েছিল এক মহামারী রোগ সেই সময় প্রথম শিশু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই ছাতু বাবুর বাগানবাড়িতে আসেন প্রায় ৪৮ দিন এখানে ছিলেন এখানেই প্রথম সাঁতার কাটা শিখেছিলেন এরপরে দ্বিতীয়বার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আগমন হয় পানিহাটির মাটিতে ৫৮ বছর বয়সে ১৯১৯ সালের মে মাসে শেষ সপ্তাহে জালিয়ানাবাগ হত্যাকাণ্ডে যখন উত্তাল হয়ে উঠেছিল আমাদের দেশ সেই সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে নাইট উপাধি দিয়েছিলেন সেই নাইট উপাধি বর্জন করার যে সিদ্ধান্ত সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন এই পেনিটি বাগানবাড়ি বা ছাতু বাবুর বাগানবাড়ি থেকে সাথে ছিলেন প্রশান্ত চন্দ্র মহলনাবিশ। উনি যখন প্রথম এই বাড়িতে এসেছিলেন সেই সময় পুকুরপাড়ে একটি আমগাছ লাগিয়েছিলেন সেই আমগাছটা না দেখতে পেয়ে আরো ব্যাকুল হয়ে ওঠেন তারপর সেখান থেকে প্রশান্ত চন্দ্র মহলনাবিশ কে সঙ্গে নিয়ে আবার ফিরে যান জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে সেখান থেকেই তিনি নাইট উপাধি বর্জন করবেন সেই সিদ্ধান্তের কথা ব্রিটিশ সরকার কে জানিয়ে দেন। এরপরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এসেছিলেন ৭২ বছর বয়সে ১৯৩৩ সালের ৫ই মার্চ হোমের এক মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে এরপর আসেন চতুর্থ বার ৭৩ বছর বয়সে ১৯৩৪ সালের ৮ ই আগস্ট বাসন্তী কটন মিল উদ্বোধন করতে এই বাসন্তী কটন মিল উদ্বোধনের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে ছিলেন প্রশান্তচন্দ্র মহলনাবিশ এবং তার সাথে ছিলেন আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ১৯৪১ সালের ৩১ শে জানুয়ারি লেখা কোভিদ আরোগ্য কবিতার ১১ বছর বয়সের প্রথম দেখা এই বাড়ির ছবিটি ধরা পড়েছিল তার কবিতার লেখার মধ্যে দিয়ে। এরপরে বামফ্রন্ট সরকারের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মের দেড়শ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের সারা রাজ্যব্যাপী পালন করা হয়েছিল। সেই সময় এই বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবক্ষ মূর্তি বসানো হয় সেই সময় পানিহাটি পৌরসভার পৌর প্রধান ছিলেন মনোরঞ্জন সরকার তার উদ্যোগে এবং সেই আবক্ষ মূর্তিটি উদ্বোধন করতে এসেছিলেন শক্তিপদ রাজগুরু এবং বামফ্রন্ট সরকারের সময় হেরিটেজ এই সংস্থার প্রধান ছিলেন প্রতাপচন্দ্র চন্দ্র তার হাত ধরেই এই পেনিটি ভবন বা ছাতুবাবুর বাগানবাড়ি হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়। ৩৩ বছর ধরে এই বাড়িতে পানিহাটি পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রতি বছর ২৫শে বৈশাখে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনের দিন জন্মদিন পালন করা হয় নাচে গানে কবিতায়। কিন্তু এ বছরই ব্যতিক্রম দেখা গেল, তৃণমূল সরকারের থেকে আসলো বিজেপির সরকার। রবীন্দ্রনাথের ১৬৬ তম জন্মদিন পালন করার উদ্যোগ নিল না তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পানিহাটি পৌরসভা কিন্তু ১১ সালে যখন সরকারের পরিবর্তন ঘটে সেই সময়ও কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন পালন করা হয়, ব্যতিক্রম হয়ে রইল এ বছর। রবীনাথ ঠাকুরের জন্মদিন ২৫ শে বৈশাখ উদযাপন আর হলো না এলাকার রবীন্দ্র প্রেমিক মানুষ তাদের উপস্থিতিতেই এবং এই পেনিটি ভবনে আবাসিক যে মেয়েরা থাকে প্রায় একশো কুড়ি জন তাদেরকে নিয়েই রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পালন করা হলো। যদিও বা পৌরসভায় তৃণমূল সরকারের বোর্ড এখনো পর্যন্ত রয়েছে তাই প্রত্যেক বছরের মতো এবছরও তৃণমূলী এই অনুষ্ঠান করবে এই জেনে বিজেপির পক্ষ থেকে কোনো রকম রবীন্দ্র অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়নি। সর্বোপরি রাজনীতির আড়ালে কোন একটা জায়গায় গুণী ব্যক্তিত্বরা হারিয়ে যাচ্ছে না তো? প্রশ্ন আপামর জনতার।