কর্মরত শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক টেট বাতিলের দাবিতে বিকাশ ভবন ব্যাপক বিক্ষোভ
কলকাতা, ০৭.১০.২০২৬ – কর্মরত শিক্ষকদের টেট বাধ্যতামূলক করার প্রতিবাদে আজ করুণাময়ীর বিকাশ ভবনের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ ও গেটে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। পরে মন্ত্রী মশাই ডেপুটেশন গ্রহণ করেন।
শিক্ষায় গুণগত মান রক্ষার নামে সুপ্রিম কোর্ট গত ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সকল কর্মরত শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক টেট পাশের নির্দেশ করেছে। এই রায়ে দেশের প্রায় ৩৩ লক্ষ শিক্ষকের সঙ্গে এ রাজ্যের প্রায় ৯০ হাজার চূড়ান্ত সমস্যায় পড়েছেন। প্রত্যেক শিক্ষকই তৎকালীন পরীক্ষার নিয়ম মেনে উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। অথচ পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে চাকরি রক্ষার এই নির্দেশ নিঃসন্দেহে অমর্যাদাকর ও অসম্মানের। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষক চাকরি হারানোর আশঙ্কায় আত্মহত্যা করেছেন। শিক্ষক সমাজ ভীষণ আতঙ্কিত ।
শিক্ষা যুগ্ম তালিকাভুক্ত। তাই তামিলনাড়ু ও জম্মু কাশ্মীর সরকার টেট আইন চালু হওয়ার পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের টেট গ্রহণ না করবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। অথচ পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ ব্যাপারে কোনো আলোচনা বা আদালতের দ্বারস্থ না হয়ে টেট গ্রহণ করবার উদ্যোগ নিয়েছে।
এহেন সমস্যা সমাধানে দেশ ব্যাপী শিক্ষক আন্দোলনের পাশাপাশি এ রাজ্যে আন্দোলনের উদ্দেশ্যে বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি, প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতি, ট্রেন্ড টিচার্স এ্যাসোসিয়েশন (ওল্ড) সহ আপামর সাধারণ শিক্ষকগণ দলমত নির্বিশেষে ‘TET Affected Teachers’ গড়ে তুলেছেন। সেই সংগঠনের উদ্যোগে আজ ৭ অক্টোবর করুণাময়ীতে বেলা ১ টায় জমায়েত হয়ে বিকাশ ভবনে ব্যাপক বিক্ষোভ ও পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ অভিযান করে এবং শিক্ষামন্ত্রী, কমিশনার ও পর্ষদ সভাপতির নিকট ডেপুটেশন হয়। নেতৃত্ব ছিলেন আনন্দ হাণ্ডা, বাসুদেব দাস, প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত , অশোক রুদ্র প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। প্রথমে শিক্ষা দপ্তর ডেপুটেশন গ্রহণ না করায় বিকাশ ভবনের গেটে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের নাস্তানাবুদ অবস্থা হয়।
এরাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাবল ইঞ্জিন সরকার গঠিত হলে উদ্ভুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তাব্যক্তিরা অর্ডিন্যান্স জারি করে সমাধানের কথাও বলেছিলেন।
নব নির্বাচিত রাজ্য সরকার তাঁদের নির্বাচনী নানান প্রতিশ্রুতি রক্ষায় একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। তেমনি ভাবে এই সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগী হবে বলে নেতৃবৃন্দ আনন্দ হাণ্ডা আশা পোষণ করেন।
তাঁরা চাকরি সুরক্ষার দাবিতে দলমত নির্বিশেষে সমস্ত কর্মরত শিক্ষকদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার আবেদন জানান।