AMAR BANGLA NEWS

কারখানার বদলে জঙ্গল! ডুয়ার্সে বিশ্বকর্মা পুজোয় বন্দনা ‘জীবন্ত গণেশ’ বীর ও কাবেরীর

কারখানার বদলে জঙ্গল! ডুয়ার্সে বিশ্বকর্মা পুজোয় বন্দনা ‘জীবন্ত গণেশ’ বীর ও কাবেরীর যেখানে যন্ত্রের কোলাহল নেই, নেই কোনো বড় কারখানার...

কারখানার বদলে জঙ্গল! ডুয়ার্সে বিশ্বকর্মা পুজোয় বন্দনা ‘জীবন্ত গণেশ’ বীর ও কাবেরীর

যেখানে যন্ত্রের কোলাহল নেই, নেই কোনো বড় কারখানার চিমনি সেখানেও ধুমধাম করে উদযাপিত হলো বিশ্বকর্মা পুজো। তবে লোহার যন্ত্রপাতির বদলে ডুয়ার্সের জলপাইগুড়ি বন বিভাগের ময়নাগুড়ির রামসাইতে আজ আরাধনা করা হলো বনের দুই রত্ন, কুনকি হাতি ‘বীর’ এবং ‘কাবেরী’-কে। বিশ্বকর্মা পুজোর পুণ্যলগ্নে গরুমারা অভয়ারণ্যের রামসাই মোবাইল ক্যাম্পে দেখা গেল এক অনন্য ও মনকাড়া ছবি। জলপাইগুড়ি বন দফতরের বিশেষ উদ্যোগে আজ সম্পূর্ণ নিষ্ঠা ভরে পুজো করা হলো এই জীবন্ত হাতিদের। তাদের সামনে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছিল পুজোর নৈবেদ্য ও ফলমূলের থালা। আর ডুয়ার্সের বুকে এই অভিনব পুজো দেখার জন্য সকাল থেকেই দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে আসা মানুষ এবং পর্যটকদের ঢল নামে। ময়নাগুড়ির রামসাই এবং তার পার্শ্ববর্তী জঙ্গল এলাকাগুলোতে হাতি ও মানুষের লড়াইয়ের খবর মাঝে মধ্যেই শিরোনামে আসে। কখনো লোকালয়ে হাতির হানা, আবার কখনো মানুষের অসচেতনতায় বন্যপ্রাণের ক্ষতি! দুই পক্ষের সংঘাত ডুয়ার্সের এক চেনা ছবি। কিন্তু আজকের এই পুজো যেন সেই সমস্ত তিক্ততা মুছে দিয়ে এক অদ্ভুত সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা দিয়ে গেল। জলপাইগুড়ি বনবিভাগ সূত্রে খবর,বন্যপ্রাণের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সচেতনতা বাড়িয়ে তোলার পাশাপাশি হাতি ও মানুষের এই চিরন্তন সংঘাত কমিয়ে আনাই এই অভিনব পুজোর মূল উদ্দেশ্য। রামসাইয়ের এই আন্তরিক আয়োজন আজ শুধু উৎসবের আনন্দই ছড়ায়নি, বরং মানুষ ও প্রকৃতির মেলবন্ধনের এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।