জাতীয় সড়কে গৃহপালিত পশুর মৃতদেহ রেখে অবরোধ। দীর্ঘক্ষণ ধরে স্তব্ধ হয়ে জল যানচলাচল।পুলিশের হাত থেকে ২ পাচারকারীকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেয় বিক্ষোভকারীরা।
১২ নম্বর জাতীয় সড়কে গৃহপালিত গরুর মৃতদেহ রেখে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ। দীর্ঘক্ষণ ধরে অবরোধের জেরে স্তব্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। এলাকাবাসীদের হাতে পাকড়াও দুই গরু পাচারকারী যুবক। পুলিশের গাড়ি আটক করে চলে দীর্ঘক্ষণ যাবৎ বিক্ষোভ। ঘটনাটি ঘটেছে, বারাসাত নেতাজি পল্লী এলাকায়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকা থেকে গরু নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বহু খোঁজাখুঁজির পরও গরুর মৃতদেহ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একই ভাবে এলাকাবাসীদের একাংশ নিখোঁজ গরুদের খুঁজতে বের হয়। খোঁজাখুঁজি করতে করতে বারাসাত কালীবাড়ি এলাকার একটি মাঠে পৌঁছলে তারা দেখে বেশ কয়েকজন যুবক মিলে একটি গরুর মৃতদেহ গাড়িতে তোলার চেষ্টা করছে। সে সময় তাদের আটকাতে গেলে গাড়ি নিয়ে বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীদের হাতে ধরা পড়ে ২ যুবক। এদিকে নিখোঁজ গরু মালিকদের মধ্যে একজন দাবি করেন এই মাতৃ সম্ভাবনা গরুটি তার। ধৃত ২ যুবককে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করলে তারা বলে ৩০০ টাকার বিনিময়ে এই মরা গরুটি নিয়ে যেতে এসেছিলেন তারা। এর পরই বিক্ষুব্ধ জনতা গণপ্রহার শুরু করে দুই যুবককে। ঘটনার খবর পেয়ে পৌঁছয়ে দত্তপুকুর থানার পুলিশ। ওই দুই যুবককে উদ্ধার করে নিয়ে আসতে গেলে পুলিশের গাড়ি আটকেও শুরু হয় বিক্ষোভ।এলাকাবাসীদের দাবি এটি একটি গাং।যারা বিষ খাইয়ে গৃহপালিত গরুগুলিকে মেরে ফেলে পাচার করছে। এদের নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে। পুলিশের উপর থেকে আস্থা হারোনোর অভিযোগ তুলে পুলিশের গাড়ি থেকে নামিয়ে এনে চলে মারধর। পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের শাস্তি ও বিচারের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে। মৃত গৃহপালিত গরুটির মরদেহ রাস্তায় রেখেই টায়ার জ্বালিয়ে চলে বিক্ষোভ। ঘন্টাখানেকের অবরোধের পর এসে পৌঁছয় ঘটনাস্থলে এসডিপিও বারাসাত নেতৃত্বাধীন বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশী আশ্বাসে প্রায় এক ঘন্টা পর তুলে নেয় অবরোধ। পুলিশের পক্ষ থেকে গরুটির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ময়নাতদন্তের জন্য বারাসাত পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক ২ পাচারকারীর নাম নাজমুল হোসেন ও নিজামুদ্দিন। বারাসাত কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা তারা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।