AMAR BANGLA NEWS

স্বাস্থ্য ভবন অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্র রাজ্য, জেলায় জেলায় চরম উত্তেজনা

স্বাস্থ্য ভবন অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্র রাজ্য, জেলায় জেলায় চরম উত্তেজনা আজ আশা কর্মীদের পূর্বনির্ধারিত স্বাস্থ্য ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে সকাল...

স্বাস্থ্য ভবন অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্র রাজ্য, জেলায় জেলায় চরম উত্তেজনা

আজ আশা কর্মীদের পূর্বনির্ধারিত স্বাস্থ্য ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উত্তপ্ত তিলোত্তমা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা। বেতন বৃদ্ধি, স্থায়ীকরণসহ মোট ৮ দফা দাবিতে আজ ফের পথে নেমেছেন কয়েক হাজার আশা কর্মী। তবে আন্দোলনের আঁচ স্বাস্থ্য ভবনে পৌঁছানোর আগেই পুলিশি তৎপরতায় চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

দুর্ভেদ্য দুর্গ সল্টলেক

স্বাস্থ্য ভবন চত্বর আজ কার্যত পুলিশের দুর্গে পরিণত হয়েছে। বড় বড় অ্যালুমিনিয়াম এবং লোহার ব্যারিকেড দিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাফ মোতায়েন রয়েছে। সকাল থেকেই কাউকে জমায়েত হতে দেওয়া হচ্ছে না; দেখা মাত্রই পুলিশ তাঁদের আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলছে।

জেলায় জেলায় ধরপাকড় ও বাধা আন্দোলনকারীদের। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ শুধু কলকাতায় নয়, জেলা স্তর থেকেই তাঁদের আসতে বাধা দিচ্ছে।

স্টেশনে ট্রেন ধরার আগেই অনেক কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

মেদিনীপুর ও বর্ধমান: ট্রেন ও বাস থেকে আন্দোলনকারীদের নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। মেদিনীপুর স্টেশনে বাধার প্রতিবাদে রেললাইনে শুয়ে বিক্ষোভ দেখান কর্মীরা।

গৌড় এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনে কর্মীদের উঠতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

শিয়ালদহ স্টেশনে ব্যাপক জমায়েত

বিভিন্ন জেলা থেকে পুলিশের বাধা এড়িয়ে যারা কলকাতায় পৌঁছাতে পেরেছেন, তাঁরা শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে জমায়েত করেন। সেখানে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়। বাধা পেয়ে আন্দোলনকারীরা শিয়ালদহ স্টেশনেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন, যার ফলে নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।

আশা কর্মীদের মূল দাবি

আন্দোলনকারী নেতৃত্বের দাবি, গত ৭ জানুয়ারির অভিযানের পর প্রশাসন কোনো সদর্থক ভূমিকা নেয়নি। তাঁদের প্রধান দাবিগুলো হলো:

মাসিক সম্মানী বাড়িয়ে ন্যূনতম ১৫,০০০ টাকা করা।

স্থায়ী সরকারি কর্মীর মর্যাদা দেওয়া।

মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ৫ লক্ষ টাকার বিমা সুবিধা চালু করা।

প্রশাসনের বক্তব্য

রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এর আগেই দাবি করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ অন্যান্য রাজ্যের চেয়ে আশা কর্মীদের বেশি টাকা দেয়। পুলিশের দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার খাতিরেই এই ব্যারিকেড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। জেলা থেকে আসা কর্মীদের অনেককেই আটক করে লালবাজার বা পার্শ্ববর্তী থানাগুলোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সল্টলেক সেক্টর ফাইভ এলাকায় ব্যাপক ট্রাফিক জ্যাম তৈরি হয়েছে।