AMAR BANGLA NEWS

ভোটার তালিকায় নাম সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে পিতৃপরিচয়ের প্রমাণ দিতে গিয়ে ইতিহাসের এক পুরনো দলিলের উপরই ভরসা রাখতে হল সিউড়ির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মলয় কুমার গুহকে।

ভোটার তালিকায় নাম সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে পিতৃপরিচয়ের প্রমাণ দিতে গিয়ে ইতিহাসের এক পুরনো দলিলের উপরই ভরসা রাখতে হল সিউড়ির ১৩...

ভোটার তালিকায় নাম সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে পিতৃপরিচয়ের প্রমাণ দিতে গিয়ে ইতিহাসের এক পুরনো দলিলের উপরই ভরসা রাখতে হল সিউড়ির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মলয় কুমার গুহকে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় তাঁকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়।
সমস্যা তৈরি হয় পিতৃপরিচয়ের নথি নিয়ে। মলয়বাবুর বাবার স্কুল সার্টিফিকেট, ভোটার আইডি সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি সময়ের সঙ্গে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। হাতে থাকা একমাত্র প্রমাণ ছিল একটি পুরনো ভারত–পাকিস্তান পাসপোর্ট। ১৯৫৪ সালে ইস্যু হওয়া এই পাসপোর্টের মেয়াদ ছিল ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত, যা শেষবার ১৯৬১ সালে নবীকরণ করা হয়।
মলয়বাবুর বাবা অনুকূলচন্দ্র গুহ দেশভাগের পরেও তৎকালীন পাকিস্তানে থাকা পারিবারিক জমিজমা দেখাশোনার জন্য নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সেই প্রয়োজনেই তৈরি হয়েছিল এই পাসপোর্ট। যদিও মলয়বাবুর জন্ম টালিগঞ্জে, শৈশবে তিনি বাবার পাকিস্তান যাতায়াতের স্মৃতি আজও মনে রেখেছেন।
এই পাসপোর্টটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পারিবারিক আবেগও। বাড়ির পুরনো কাগজপত্র ফেলার সময় আবর্জনার মধ্যে পড়ে থাকা এই নথিটি উদ্ধার করে রেখেছিলেন মলয়বাবুর স্ত্রী উমা গুহ। তখন সেটি ছিল শ্বশুরমশাইয়ের স্মৃতি, আর আজ সেটিই হয়ে উঠেছে পরিবারের পরিচয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
বহু বছর পর এসআইআর হিয়ারিংয়ে সেই পুরনো ভারত–পাকিস্তান পাসপোর্টই পিতৃপরিচয়ের শেষ ভরসা হয়ে উঠল। একটি ভ্রমণ নথি থেকে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে, আজ তা দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি পরিবারের অস্তিত্ব ও পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে।